বরানগরের রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন বেশ টানটান। নির্বাচনের প্রাক্কালে, প্রচারের ময়দানে নেমে ‘সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায়’ (Sayantika Banerjee) আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে, এই প্রচারের মাঝেই কিছুদিন আগে তাঁর জনসংযোগ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তায় নেমে বিরোধী শিবিরের কর্মীরা সরব হয়ে ওঠেন, স্লোগান ওঠে তাঁকে লক্ষ্য করে কটাক্ষপূর্ণ ভাষায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং রাজনৈতিক তর্ক ক্রমে ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকেও গড়ায়। এই ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক বিরোধই সামনে আসেনি, বরং ভাষার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশ্যে নারীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সায়ন্তিকা জানান, এই ধরনের আচরণ কোনও ব্যক্তিকে নয়, বৃহত্তর সমাজকে আঘাত করে। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও স্পষ্ট ছিল যে জনজীবনে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে, ভোটের আবহে নতুন করে সামনে এসেছে বরানগরের পুরনো সমস্যা, জল নিকাশি ব্যবস্থা। সম্প্রতি এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের এক অভিনব প্রতিবাদ নজর কেড়েছে। হাতে গামলা নিয়ে রাস্তায় নেমে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাঁদের দাবি, আগের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি, বরং বৃষ্টির সময় জল জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই প্রতীকী প্রতিবাদ দ্রুতই আলোচনায় উঠে আসে। এরই মাঝে সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি বিতর্ক দানা বাঁধে। সায়ন্তিকার অভিযোগ, তাঁর নামে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এই ধরনের কাজের পিছনে বিরোধী শিবিরের আইটি সেলের ভূমিকা রয়েছে। সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি সকলকে অনুরোধ করেন শুধুমাত্র তাঁর যাচাইকৃত অফিসিয়াল প্রোফাইলকেই বিশ্বাস করতে। এই সমস্ত ঘটনার মাঝে রাজনৈতিক লড়াই যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনই স্থানীয় সমস্যাও সামনে চলে আসছে বারবার। উন্নয়ন বনাম অসন্তোষ, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বরানগরের ভোটের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটেই সায়ন্তিকা এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বরানগরের ভৌগোলিক অবস্থান একটা গামলার মতো।” আর তাই নাকি জল জমে থাকে বর্ষাকালে! অভিনেত্রীর এই কথা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে চর্চা!
সামাজিক মাধ্যমে কেউ বলছেন, “এ তো দেখছি ভূগোলে মাস্টার ডিগ্রী!” একজন বলছেন, “বরানগর এর বিধায়িকা, বরানগর গামলার মতো! তাহলে কি আমরা গামালার বিধায়িকা বলতে পারবো ওনাকে?” অন্যজনের কথায়, “গামলার নিচে একটা ফুটো করে দিন জল নেমে যাবে!” কেউ আবার সরাসরি কটাক্ষ করে বলছেন, “হ্যাঁ। বর্ষায় এবার আসুন যদি জেতেন, টইটম্বুর গামলায় স্নানও করতে পারবেন।” এছাড়াও, বিজেপি সমর্থকেরা যেসব ধিক্কার স্লোগান দিচ্ছেন অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে, তা ভোটের প্রাক্কালে এক ধরনের সন্দেহ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন জাগছে, আদৌ নির্বাচনের ফলাফল কি অভিনেত্রীর পক্ষে যাবে এবার?






“বিয়ে মানেই তো সিঁদুর-ফিদুর লেবড়ে-লুবড়ে…” বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিতেই মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন কৌশিক সেন! ‘জীবনের ব্যাপ্তি শুধু লিভ ইন করলেই?’ ‘সত্যি কী ভাষা আপনার, ছিঃ!’ ‘পাবলিক ফিগার বলেই কি যা খুশি বলবেন?’ যারা শাঁখা-সিঁদুর পরে তাদের অপমানে, অভিনেতাকে ধুয়ে দিলেন ক্ষু’ব্ধ নেটিজেনরা!